protichinta

কালান্তরের ঘূর্ণিপাকে

আবুল মোমেন

১.

ইংরেজের সংস্পর্শে এসে বাঙালির জীবনে ভেতরে-বাইরে পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর বিখ্যাত ‘কালান্তর’ প্রবন্ধে তিনি ইংরেজকে ‘নব্য য়ুরোপের চিত্তপ্রতীক’ এবং ‘চিত্তদূতরূপে’ আখ্যায়িত করেছেন। তিনি লিখেছেন ইংরেজের আগমনের ফলে ‘য়ুরোপীয় চিত্তের জঙ্গমশক্তি আমাদের স্থাবর মনের উপর আঘাত করল।’ একে তিনি তুলনা করেছেন আকাশ থেকে নামা বৃষ্টিধারার সাথে যা ‘ভূমিতলের নিশ্চেষ্ট অন্তরের মধ্যে প্রবেশ করে প্রাণের চেষ্টা সঞ্চার করে দেয়, সেই চেষ্টা বিভিন্নরূপে অঙ্কুরিত বিকশিত হতে থাকে।’

পশ্চিমের এই শক্তি এল কিসের জোরে? কবি মনে করেন তাদের ‘সত্যসন্ধানের সততায়’। তারা প্রতিদিন জয় করেছে ‘জ্ঞানের জগেক, কেননা তার বুদ্ধির সাধনা বিশুদ্ধ, ব্যক্তিগত মোহ থেকে নির্মুক্ত।’ আমাদের চিত্ত প্রাচীন বিশ্বাসের প্রাচীরে আবদ্ধ এবং নতুনের প্রতি সন্দিগ্ধ থাকলেও ‘জ্ঞানের বিশ্বরূপ’ এবং বুদ্ধির ‘সর্বব্যাপী ঔত্সুক্য’ সম্পূর্ণ ঠেকানো যায়নি। মানুষের জন্মগত আর ‘পূর্বজন্মার্জিত কর্মফলে’ যে অধিকার এবং তার সৃষ্ট অচলায়তনে বাঁধা যে সমাজ বহুকাল স্থবির হয়ে থেকে স্থাবর হয়ে পড়েছিল তাতে ঘা লাগল, ফাঁকফোকর তৈরি হলো। এই কালান্তরের আগে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাঙালি অষ্টাদশ শতাব্দী নাগাদ ‘তাহার গ্রাম্য জীবনের ক্ষুদ্র পরিধির মধ্যে খুশি হইয়াই থাকিত।’

এবারে ইংরেজের প্রভাব পড়ল বাঙালি জীবনাচরণে এবং বুদ্ধির জগতে, অর্থাত্ বাইরে ও ভেতরে। ইংরেজি ভাষায় দক্ষ, ইংরেজের পোশাকে অভ্যস্ত, ইংরেজের চালচলনের অনুরক্ত একটি শ্রেণি তৈরি হয়। তাদের, এবং তাদের বাইরেও অনেকের, মন থেকে সনাতন বিশ্বাস ও সংস্কারের ঘোর কাটতে শুরু করে—ক্ষুদ্র একটি অংশের মধ্যে সন্দেহ-সংশয়, জিজ্ঞাসা-কৌতূহল, এমনকি জন্মায় সাহস, যা প্রশ্ন ও প্রত্যাখ্যান করে সনাতন প্রথাকে এবং নতুন ও বিকল্পকে গ্রহণ ও সৃজন করার জন্য তত্পর হয়। রাজা রামমোহন রায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ধর্ম ও শাস্ত্রের সাহায্য নিয়ে ধর্মের নামে সমাজের অমানবিক নিষ্ঠুর কিছু প্রথা রদ করতে চেয়েছিলেন। সতীদাহ প্রথা বন্ধের উদ্যোগ দ্রুত সাফল্য পেয়েছিল মূলত ইংরেজ শাসকদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়; বিধবাবিবাহ চালু করা শাসক নয় হিন্দুসমাজের দায় হওয়ায় তা ঘটেছে ধীরে, বৃহত্তর সমাজের প্রায় অগোচরে, এবং বিপরীতে, বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে—সমাজ বা শাসক কখনো অনুমোদনের স্পষ্ট কোনো বিধান দেয়নি।

তবে সনাতন সমাজের সঙ্গে এ দুজনের বিতর্ক ও বিরোধ পুরোনোকে চ্যালেঞ্জ...

pathok

যোগাযোগের ঠিকানা

সিএ ভবন,
১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,
কারওয়ান বাজার, ঢাকা - ১২১৫।

ফোন: ৮৮০-২-৮১১০০৮১, ৮১১৫৩০৭
ফ্যাক্স - ৮৮০-২-৯১৩০৪৯৬

protichinta kinte chile