protichinta

নজরদারির পুঁজিবাদ: একচেটিয়া-ফিন্যান্স পুঁজি, সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স ও ডিজিটাল যুগ

জন বেলামি ফস্টার ও রবার্ট ডব্লিউ ম্যাকচেনজি, অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন

সারসংক্ষেপ

‘সাম্রাজ্যবাদের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো পুঁজিবাদ।’ একুশ শতকে এসে সাম্রাজ্যবাদের ধরনে পরিবর্তন এলেও আদর্শের দিক থেকে এটি অবিচল রয়ে গেছে। নব্য উদারবাদ অর্থনীতির যুগে সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো ভূখণ্ডভিত্তিক উপনিবেশ স্থাপনের পরিবর্তে অন্য রাষ্ট্রের বাজার দখলের মাধ্যমে তাদের সাম্রাজ্যবাদী নীতি বহাল রেখেছে। সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উত্পাদন বৃদ্ধি ঘটানোর ফলে সৃষ্ট উদ্বৃত্ত পুঁজিই বিদেশি বাজার দখলের পেছনে তাড়না হিসেবে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে তার সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে সেই সাম্রাজ্যবাদী নীতিটি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি পণ্যের চাহিদা বাড়িয়ে দিয়ে একদিকে যেমন ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তেমনি কর্মসংস্থান ধরে রাখতেও সহায়তা করে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রাযুক্তিক বিকাশ ত্বরান্বিত করে জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতেও এই প্রক্রিয়া বহুল ফলদায়ক। বিশ শতকের মার্কিন এই সাম্রাজ্যবাদ নীতিটি যেমন যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবাজ ও নজরদারি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে, তেমনি একুশ শতকের তথ্যপ্রাযুক্তিক বিপ্লব বা ডিজিটাল বিশ্বব্যবস্থা সেই যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার মূল হাতিয়ার—নজরদারি ব্যবস্থা জোরদারকরণে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি উপকরণগুলো এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। যুদ্ধবাজ রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হওয়া, বিক্রয় প্রচেষ্টা জোরদার, ফাইন্যান্সিয়ালাইজেশন, ডেটা মাইনিং ও সাইবার যুদ্ধ, ইন্টারনেটভিত্তিক একচেটিয়া পুঁজি ইত্যাদি সবই এই সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সকে টিকিয়ে রাখার মাধ্যমে নজরদারির পুঁজিবাদ বা নতুন ধারার সাম্রাজ্যবাদকেই প্রকারান্তরে বাস্তবায়ন করছে।

মুখ্য শব্দগুচ্ছ: পুঁজিবাদ, নজরদারি, একচেটিয়া-ফিন্যান্স পুঁজি, সামরিক শিল্প-ডিজিটাল কমপ্লেক্স, রাজনৈতিক অর্থনীতি, সাম্রাজ্যবাদ/সমরবাদ

pathok

যোগাযোগের ঠিকানা

সিএ ভবন,
১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,
কারওয়ান বাজার, ঢাকা - ১২১৫।

ফোন: ৮৮০-২-৮১১০০৮১, ৮১১৫৩০৭
ফ্যাক্স - ৮৮০-২-৯১৩০৪৯৬

protichinta kinte chile