protichinta

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সুশাসন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বস্তরের এক পরম আকাঙ্ক্ষিত বিষয় হলেও দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য তা আরও বেশি জরুরি। ইউনিয়ন পরিষদই স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সর্বনিম্ন ও একমাত্র স্তর, যেখানে সাধারণ মানুষের কিছু মাত্রায় হলেও যোগাযোগ ও কথা বলার সুযোগ রয়েছে। তাই সরকারব্যবস্থার এই স্তরটির সুশাসন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আগামী মার্চে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘দরিদ্র্যবান্ধব স্থানীয় সরকার ও ইউনিয়ন পরিষদ নেতাদের রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ’ প্রবন্ধটি স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিতকরণে রাজনৈতিক নির্ধারকগুলো বুঝতে সহায়তা করবে। প্রবন্ধটি লিখেছেন মির্জা হাসান ও সোহেলা নাজনীন।

শিক্ষা অন্যতম মৌলিক মানবাধিকার। সুশিক্ষাই পারে বাংলাদেশের বহুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে সমৃদ্ধ করে একটি উন্নত রাষ্ট্রগঠনের দিকে এগিয়ে নিতে। অন্যদিকে শিক্ষার সঙ্গে দারিদ্র্যের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সুশিক্ষার অবাধ বিস্তারই পারে কোনো সমাজের এবং বৃহত্তর অর্থে রাষ্ট্রের দরিদ্র মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে। বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। এই শিক্ষানীতির অন্যতম মৌলিক লক্ষ্য হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি-সাধনের জন্য শিক্ষাকে সৃজনধর্মী, প্রয়োগমুখী ও উত্পাদন-সহায়ক করে তোলা এবং বৈষম্যহীন সমাজ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ী স্থানিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষালাভের সমান সুযোগ অবারিত করা। এম এম আকাশ তাঁর ‘দারিদ্র্য দূরীকরণে শিক্ষাই সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ’ শীর্ষক প্রবন্ধে নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ তুলে ধরে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মমুখী শিক্ষাকে উত্সাহিত করার যুক্তি তুলে ধরেছেন। লেখকের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা-পরবর্তী স্তরে মানসম্মত কারিগরি শিক্ষার প্রচলন ও সমন্বয় সম্ভব হলে দেশকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব। এই প্রবন্ধ উত্সাহী পাঠক এবং নীতিনির্ধারক উভয়কেই শিক্ষার বিস্তার এবং উন্নয়নে নতুন ভাবনার খোরাক জোগাবে বলে আশা করি।

গত ১২ জানুয়ারি, ২০১৬-তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। যদিও ঘটনার সূত্রপাত এর আগের দিন ১১ জানুয়ারিতে। এই দিন সংঘর্ষে শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী নিহত হয় এবং এর জের ধরে পরের দিন শহরে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। এই সহিংসতায় ধ্বংস করা হয় উপমহাদেশের স্বনামধন্য সংগীতসাধক ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিবিজড়িত সংগ্রহশালাসহ নানা সংগ্রহ ও স্থাপনা। এই ঘটনাকে অনেকে দেখছেন বিশ্বব্যাপী বিকাশমান ধর্মীয় উগ্রবাদের মহড়া হিসেবে। অন্যদিকে অনেকের মতে, এটি চলমান জাতীয় রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি বহিঃপ্রকাশ। ভারতীয় উপমহাদেশে মাদ্রাসাশিক্ষার উত্পত্তি, ইতিহাস এবং বিকাশের ধারণার বিস্তৃত আলোচনা এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হবে। এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই আলী রীয়াজের ‘দক্ষিণ এশিয়ায় মাদ্রাসাশিক্ষা: প্রাক-ঔপনিবেশিক এবং ঔপনিবেশিক আমল’ নামক প্রবন্ধটি ছাপা হলো। এই প্রবন্ধটিতে পাঠক উপমহাদেশে মাদ্রাসাশিক্ষার ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তনের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন বলে আশা করি।

শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশের অন্যতম পূর্বশর্ত। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাস্থ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কয়েক দশক ধরে এইচআইভির মতো মরণব্যাধিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে বিশেষত গত কয়েক বছরে ইবোলা এবং বর্তমানে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকে রাষ্ট্রগুলোকে তাদের নাগরিকদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আগের চেয়ে আরও বেশি সচেতন হতে দেখা যাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হলো শাহাদুজ্জামানের ‘বিশ্ব স্বাস্থ্যের পরিপ্রেক্ষিত ও বাংলাদেশ’ নামক প্রবন্ধটি। প্রবন্ধটিতে লেখক আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়টি পর্যালোচনা করেছেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রাসঙ্গিক বিষয় হচ্ছে এ সময় ঘটে যাওয়া মানব ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য গণহত্যা। এই গণহত্যায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক-আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর মন্তব্য ও মতামত। এই বিষয়টিতে একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুনভাবে ভাবার ও বিশ্লেষণের সুযোগ আছে বলে আমরা মনে করি। একটি ঐতিহাসিক সত্যকে যদিও প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন হয় না, তবে এটিকে ঘিরে যে বিতর্ক, সেটিকে একটি তাত্ত্বিক ও একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যার প্রচেষ্টা হিসেবে এই সংখ্যায় তরুণ গবেষক আরিফ রহমানের ‘মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদ: মিথ না রিয়েলিটি?’ শীর্ষক প্রবন্ধ ছাপা হলো। অন্যদিকে বই আলোচনা অংশে ছাপা হলো কল্যাণ চৌধুরীর জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ (১৯৭২) বইয়ের পর্যালোচনা প্রবন্ধ ‘জেনোসাইড বাংলাদেশ: আপেক্ষিক বনাম তথাগত দৃষ্টিভঙ্গি’। বই পর্যালোচনাটি করেছেন মো. ফজলে রাব্বি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংঘাত একটি নিয়মিত প্রবণতা। স্বাধীনতার পর থেকেই এটি রাজনীতির একটি বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে এত দিন ধরে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের আলোচনা হলেও, ২০১৫ সালে প্রকাশিত বদরুল আলম খানের সংঘাতময় বাংলাদেশ: অতীত থেকে বর্তমান শীর্ষক বইটি নিঃসন্দেহে এই ক্ষেত্রে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। বইটির রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সংখ্যায় বইটির একটি পর্যালোচনা ছাপা হলো। পর্যালোচনাটি করেছেন গোলাম মুস্তাফা। আশা করি, যাঁরা এখনো বইটি পড়েননি, তাঁরা পর্যালোচনাটি পড়ার পর বইটি পড়তে উত্সাহিত হবেন।

pathok

যোগাযোগের ঠিকানা

সিএ ভবন,
১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,
কারওয়ান বাজার, ঢাকা - ১২১৫।

ফোন: ৮৮০-২-৮১১০০৮১, ৮১১৫৩০৭
ফ্যাক্স - ৮৮০-২-৯১৩০৪৯৬

protichinta kinte chile