protichinta

১৮৭৪-১৯৪৭ কালপর্বে বাংলা-আসামের সীমান্তে অদলবদল এবং সিলেটের গণভোটের ইতিহাস

আশফাক হোসেন

সারসংক্ষেপ

ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের আকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮৭৪ সালে একটি নতুন প্রদেশ হিসেবে আসামের সৃষ্টি এবং বাংলা থেকে সিলেটকে আসামে স্থানান্তর ছিল নিছক এক ‘তামাশা’। ১৮৭৪ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সিলেট আসাম প্রদেশের একটি অংশ হয়েই থাকল, যেটি এই অঞ্চলে একটি তাত্পর্যময় পরিণতি ডেকে এনেছিল। এই প্রবন্ধে রাজনৈতিক সঞ্চালনশীলতার বা গতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে সংরক্ষিত সরকারি উত্স যাচাই ও পুনঃ যাচাই, প্রাসঙ্গিক আত্মজৈবনিক টেক্সট পাঠ করা হয়েছে। উপনিবেশ ও উত্তর-উপনিবেশ সময়কালে বিকশিত ইতিহাসবিদ্যার আলোকে বাংলা ও আসামের মধ্যবর্তী একটি স্বতন্ত্র অঞ্চলকে ‘কাল্পনিক’ ইতিহাস থেকে মুক্ত করে ‘অভিজ্ঞতাবাদী’ ইতিহাসের সাহায্যে জানার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। দেশভাগের মূল পাঠ (বাংলা) থেকে বিভাজনের এই যে উপ-পাঠ (সিলেট) সেটা আরও বেশি কৌতূহলোদ্দীপক বা ষড়যন্ত্রমূলক ছিল। কারণ, সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো এই বিষয়ের ইতিহাসকে আমাদের ক্ষুদ্র পর্যায়ে পাঠ করতে প্রস্তাব দেয়। কয়েক প্রজন্মের ইতিহাসবিদদের লেখায় সিলেটের আপামর জনগণের মনোজগেক ভাসা-ভাসা দৃষ্টিভঙ্গিতে (বাস্তবতা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে হালকাভাবে) দেখার একটি প্রবণতা বা ঝোঁক লক্ষ করা যায়। যার ফলে, বর্তমান এই প্রবন্ধটি সমন্বিত উেসর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে এই যুক্তি প্রদান করছে যে আসলে পুরো বাংলা এবং আসাম সীমান্তজুড়ে এই নতুন প্রদেশটি বাস্তবায়িত হয়েছিল ইতিহাসকে ডিঙিয়ে। মূলত ১৮৭৪ সাল থেকেই নতুন এই প্রদেশে এলিটদের কণ্ঠস্বর (যার অধিকাংশই হিন্দু এবং আংশিক মুসলিম এলিট) ছিল প্রভাবশালী। ১৯৪৭ সালের গণভোটে বিশেষ করে ‘পাকিস্তানপন্থী’ দলিত (নিম্নবর্ণীয় হিন্দু) এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত ‘ভারতপন্থী’ মৌলভিগণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘খেলোয়াড়’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। তবে সিলেটের গণভোট, বিশেষ করে ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর ওপর আলোকপাত করে পরিচালিত তেমন কোনো গবেষণা পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমান গবেষণা প্রবন্ধে ১৮৭৪ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত আসাম প্রদেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সিলেটের গণভোট বিষয়টির ক্ষেত্রে উত্থাপিত বহুমুখী প্রশ্নের সম্ভাব্য জবাব কেবল অনুসন্ধানের মাধ্যমে এক নতুন মাত্রা উন্মোচন করা হবে এবং সেই সঙ্গে এই প্রবন্ধ এ সীমান্ত জেলার মানুষের মধ্যে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ এবং ‘ধার্মিক’ শক্তির পরস্পর বিরোধিতার চেয়ে অধিক পরিমাণে ‘সাম্প্রদায়িক চৈতন্য বা মানস’ বিদ্যমান রয়েছে, সেদিকেও এক পলক নজর দেওয়ার চেষ্টা করবে।

মুখ্য শব্দগুচ্ছ: আসাম প্রদেশ, সিলেট, চা, ব্রিটিশ-সিলেটি, গণভোট, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদী।

pathok

যোগাযোগের ঠিকানা

সিএ ভবন,
১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,
কারওয়ান বাজার, ঢাকা - ১২১৫।

ফোন: ৮৮০-২-৮১১০০৮১, ৮১১৫৩০৭
ফ্যাক্স - ৮৮০-২-৯১৩০৪৯৬

protichinta kinte chile