protichinta

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত রেকর্ড করা হয় ১৯৭০ সালের আগেই...

আবদুল আহাদ

[আবদুল আহাদ (১৯০৮-১৯৯৪) রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী, সুরকার, সংগীত পরিচালক। রাজশাহী শহরে জন্ম হলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ফুকুরহাটি গ্রামে। পিতা আবদুস সামাদ খান ও মাতার নাম রহমতুন্নেসা। পিতা ও মাতামহ খানবাহাদুর মোহাম্মদ সোলায়মান দুজনেই তত্কালীন শিক্ষা বিভাগে চাকরি করতেন। আবদুল আহাদ শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। ১৯৩৪ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর কলকাতা সিটি কলেজে অধ্যয়নকালে ওস্তাদ বালি ও ওস্তাদ মঞ্জু সাহেবের নিকট তিনি উচ্চাঙ্গসংগীতে তালিম নেন। সে সময় তিনি কলকাতা বেতারে সংগীত পরিবেশনের জন্য মনোনীত হন এবং বাংলা ঠুমরি পরিবেশন করেন। ১৯৩৬ সালে অল বেঙ্গল মিউজিক কম্পিটিশনে ঠুমরি ও গজল প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে সংগীতজগতে তাঁর আসন সুদৃঢ় করেন। ১৯৩৮ সালে সরকারি বৃত্তি নিয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন। তখনকার দিনে তাঁর এ ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সাহসদীপ্ত, কারণ তখন এ দেশের মুসলিম সমাজে সংগীতের তেমন প্রচলন ছিল না। শান্তিনিকেতনে অবস্থানকালে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহাশীষ লাভে ধন্য হয়েছিলেন। শান্তিনিকেতনে চার বছর অধ্যয়ন শেষে ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতার এইচএমভি (হিজ মাস্টার্স ভয়েস) কোম্পানিতে সংগীত প্রশিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর পরিচালনায় পঙ্কজকুমার মল্লিক এবং হেমন্তকুমার মুখোপাধ্যায়ের মতো প্রখ্যাত শিল্পীরা রবীন্দ্রসংগীত রেকর্ড করেছেন। আবদুল আহাদের একটি বড় কীর্তি এ দেশে আধুনিক গান ও দেশাত্মবোধক গানের গোড়াপত্তন করা। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর আবদুল আহাদ ঢাকায় চলে অসেন এবং পরের বছর ঢাকা বেতারকেন্দ্রে সুরকার ও প্রযোজক হিসেবে যোগদান করেন। সুরকার, প্রশিক্ষক ও সংগঠক হিসেবে ঢাকার সংগীতজগতে আবদুল আহাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশভাগের ফলে ঢাকার সংগীতজগতে শিল্পীর যে শূন্যতা দেখা দেয়, আবদুল আহাদ নতুন নতুন শিল্পী সৃষ্টির মাধ্যমে সে শূন্যতা পূরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রায় দুই যুগ বেতারের ‘সংগীত শিক্ষার আসর’ পরিচালনা করেন এবং এর মাধ্যমে বেতারের সংগীতজগেক সংগঠিত ও সমৃদ্ধ করেন। আবদুল আহাদ সুরকার হিসেবেও বিশেষ প্রসিদ্ধি অর্জন করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংগীতানুষ্ঠানে সুরকার হিসেবে তিনি নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। উর্দু গজল ও গীত এবং বাংলাসহ এক হাজারের বেশি গানে তিনি সুরারোপ করেন। সংগীতে অবদানের জন্য তিনি একাধিকবার রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হন। পাকিস্তান সরকার তাঁকে ১৯৬২ সালে তমঘা-ই-ইমতিয়াজ, ১৯৬৯ সালে সিতারা-ই-ইমতিয়াজ এবং বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করে। অকৃতদার আবদুল আহাদ রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হিসেবেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরের কথ্য ইতিহাস প্রকল্পের আওতায় সাক্ষাত্কারটি গ্রহণ করেছিলেন প্রয়াত ইতিহাসবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় অধ্যাপক মুস্তফা নূরউল ইসলাম। গৃহীত সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে বর্ণনা আকারে এ রচনাটি ছাপা হলো।]

pathok

যোগাযোগের ঠিকানা

সিএ ভবন,
১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,
কারওয়ান বাজার, ঢাকা - ১২১৫।

ফোন: ৮৮০-২-৮১১০০৮১, ৮১১৫৩০৭
ফ্যাক্স - ৮৮০-২-৯১৩০৪৯৬

protichinta kinte chile